Showing posts with label লেখালেখি. Show all posts
Showing posts with label লেখালেখি. Show all posts

01 October 2020

নার্সিসিজম (NARCISSISM) একটি ভয়াবহ মানসিক রোগ

নার্সিসিজম (NARCISSISM) নার্সিসিস্ট (NARCISSIST)

‘নার্সারী’ নামটি শুনলে গাছ-পালা-ফুলের বাগান বা ছোট বাচ্চাদের স্কুলের কথা মনে হলেও এর পেছনের কাহিনী একটু ভিন্ন। গ্রীক পুরাণে একজন শিকারী ‘নার্সিসাস’ নিজের রূপে এতই মগ্ন ছিল যে (ঐ সময় আয়না ছিলনা তাই) সব সময় পানির কাছে গিয়ে বিভোর হয়ে নিজের প্রতিফলন দেখত। দেবতা নেমেসিস'এর অভিশাপ তাকে পানির ধারের ছোট গাছে পরিণত করে দেয় (যাতে সে সারা জীবন পানিতে নিজের প্রতিফলন দেখতে পারে)। 


আমাদের খুব প্রিয় রজনীগন্ধা হলো সেই ফুল গাছের আরেক রূপ যার নাম নার্সিসাস। দেবতা নার্সিসাস এর রূপান্তর আমাদের খুব প্রিয় একটি ফুল গাছ বা ফুলে হলেও এর অপর পিঠের রূপ খবই ভয়ংকর একটি রোগ। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই রোগের নাম নার্সিসিজম (NARCISSISM)। যার কোন ঔষুধ/প্রতিকার/নিরাময় আজও আবিষ্কার হয়নি।



অসুখের নামটি যতই খটমট শোনাক না কেন, একটু খেয়াল করলেই আমাদের আশেপাশের খুব কাছের মানুষদের মধ্যে এই রোগের প্রায় সব লক্ষন সহজে চিহ্নিত করা যায়। নার্সিসিস্ট (NARCISSIST)'রা 

(নার্সিসিজম রোগে আক্রান্তদের নার্সিসিস্ট বলে) সব সময় চায় তাদেরকে কেন্দ্র করে সব কিছু আবর্তিত হোক। তারা সব সময় চায় ছলে-বলে-কৌশলে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করতে। অন্যকে কোন ভাবেই তারা ভাল কাজের ক্রেডিট দিতে চায় না। 


কিন্তু তাদের এই আত্মকেন্দ্রিকতা ঠিক 'ঘরকুনো/INTROVERT' স্বভাবের না বলে এবং এরা 'বাইরে ঘুরে বেরানো/EXTROVERT' স্বভাবের বলে এদের চিহ্নিত করতে-করতে এরা ঠিক আপনার ক্ষতি করে ফেলে। এই সব নার্সিসিজম রোগীদের কথা-বার্তা-কাজ-কর্ম এমন চমকপ্রদক/ক্যারিশমাটিক (CHARISHMATIC) অথবা সহানুভুতিশীল/SYMPATHETIC যে আপনি কবে-কখন-কিভাবে এদের শিকার/VICTIM - হয়ে তাদের হাতের খেলার পুতুল/PUPPET-এ পরিণত হয়ে গেছেন টেরই পাবেন না। 


তাই নিজের ক্ষতি হবার আগেই আসুন জেনে নেই খুব সহজেই কিভাবে এই ভয়াবহ মানসিক রোগের রোগী নার্সিসিস্টদের চিহ্নিত করা যায়।



১) নার্সিসিস্টদের নিজের যা'ই থাক না কেন তা খুব বড়াই করে সবার কাছে সরাসরি এবং আকারে ইঙ্গিতে সব সময় প্রচার করে বেড়ায়। প্রয়োজনের খাতিরে বা প্রসঙ্গ/সময় বুঝে আমরা সবাই নিজেদের কথা অন্যকে বললেও, তারা সব সময় নিজের ছোট-বড় সব কিছু অন্যের কাছে খুব বড়াই করে বলে বেড়ায়। অন্য কথায় বলা যায় 'নিজের ঢোল নিজে পেটানো'। 


একজন নার্সিসিস্ট যদি ৩০ বছর আগে আপনাকে এক কাপ র' চা খাওয়ায় তা আজও নিজের ক্রেডিট নিতে এবং একই সাথে আপনাকে ছোট করতে আপনার চেনা-অচেনা সবাইকে বলে বেড়াবে।


 উদাহরনঃ 

- আরে 'অমুক'কে চেন না? 

    - ঐ যে ১৯৯০ সালে আমার কাছে এক কাপ র'চা খেয়ে গেল। 
      - এত কষ্ট করে র'চা বানালাম অথচ বলে কিনা দুধ চা পছন্দ করে। 
        - শুনেছি সে আজ অনেক বড় মানুষ কিন্তু সে দিন আমার র'চা না খেলে কি এত বড় মানুষ হতে পারত? 
          - ক'ই কেমন বড় মানুষ সে, একদিনও আমার কোন খবর নেয় না। 


          নার্সিসিজম রোগে আক্রান্ত একজন রোগী বন্ধু সেজে অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় যাতে করে পরবর্তী সময় সেটা ফলাও করে নিজের প্রচারে এবং সেই সাহায্যগ্রহনকারীকে ছোট করতে ব্যবহার করা যায়।


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্টের উপকারের জন্য আপনি সাধ্যমত যা'ই করেন না কেন সে আপনার যে কোন কাজকে ভাল না বলে খারাপ বলে প্রচার করবে।


          ২) নার্সিসিস্টরা প্রথমেই দেখে নেবে আপনার দুর্বলতা বা প্রিয়-অপ্রিয় জিনিস কি কি। তারপর সেই সূত্র ধরে বন্ধু-সাহায্যকারী-চাটুকার-সমব্যথী ইত্যাদির বেশে আপনার পাশে আসবে আপনাকে প্রভাবিত/MANUPULATION করে আপনার ক্ষতি করতে। 


          ধরুন, আপনি খুব লাল গোলাপ ফুল পছন্দ করেন এবং সেই কারনে আপনার বাগানের লাল গোলাপের সুনাম আপনার এলাকার সবখানে। নার্সিসিজম রোগে আক্রান্ত রোগী যখন আপনাকে টার্গেট করবে শিকার হিসেবে, তখন সে একদিন আপনার লাল গোলাপের বাগান দেখতে গিয়ে এত সুন্দর-সুন্দর ভাল কথা এবং প্রশংসা করবে যে আপনি বিমোহিত হয়ে যাবেন তার কথায় (বা পাম'এ)। আপনি ধরেই নেবেন আপনি এতদিন পরে একজন সমঝদার লোকের দেখা পেয়েছেন এবং সত্যিই সে আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আপনি হয়তো খুশিতে তাকে আপ্যায়নও করে বসবেন। কিন্তু ঐ রোগী আপনার বাগান দেখে ফেরার পথে বিদায় বেলায় (শুরুতেই নয় কিন্তু) আপনাকে আরো অনেক ভাল-ভাল কথা বলার সঙ্গে আরো বলবে যে, লাল গোলাপের সাথে হলুদ গাঁদা ফুল'ও ভালো লাগে দেখতে। 


          আপাত দৃষ্টিতে এই কথাটির কোন দাম না থাকলেও কিছুদিন এই নার্সিসিস্টের আপনার বাগানে আসা-যাওয়ার পর দেখবেন আপনি তার কথায় প্রভাবিত হয়ে ঐ লাল গোলাপের বাগানে (যার জন্য আপনার এত সুখ্যাতি এলাকা জুড়ে) হলুদ রঙের গাঁদা ফুলের গাছ লাগানো শুরু করেছেন। এবং আপনার সেই (অসুস্থ) শুভাকাঙ্খী বাগান পরিদর্শক এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছে যেঃ 


          - কই তার বাগানে নাকি শুধুই লাল গোলাপের গাছ? 

          - এটি সম্পূর্ন মিথ্যা কথা। 

          - হলুদ গাঁদা ফুলের গাছও প্রচুর আছে। 

          - আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি। 

          - বিশ্বাস না হলে গিয়ে দেখে আস। 


          নার্সিসিস্টদের কথা এবং কাজের ধরনই এমন। আপনি সময় মতো তার কাজের প্যাটার্ন ধরতে না পারলেই বিপদ। তাদের কথা এবং কাজে বিভ্রান্ত হয়ে আপনার আমও যাবে ছালাও যাবে। যেমন আপনার লাল গোলাপের বাগানও গেল, ঐ এলাকায় আপনার সম্মানটাও গেল।


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট আপনার যে কোন কাজে সামান্য হলেও খুঁত বের করে নিজের স্বার্থে সুবিধা অনুযায়ী সবাইকে রটিয়ে বেড়াবে।



          ৩) একজন নার্সিসিস্ট'এর সাথে আপনি যতই পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে ভাল ব্যবহার বা ভাল সম্পর্ক (HEALTHY RELATION) করার চেষ্টা করেন না কেন, সে কখনই আপনার কাজ এবং অনুভূতির কোন দাম দেবে না। সে সবসময় চেষ্টা করবে আপনার সম্পর্কে যে কোন কথা খারাপ ভাবে তিল কে তাল করে রটিয়ে বা সরাসরি আপনাকে দোষ দিয়ে আপনার মনকে ছোট করে বা আপনার মধ্যে অপরাধ বোধ জাগিয়ে তাকে আপনার উপরে বড়/(SUPERIOR) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে, যাতে সে আপনাকে নিয়ন্ত্রন/CONTROL করতে পারে। 


          আপনি যদি নার্সিসিস্টের কাজে বা কথায় কোন প্রতিক্রিয়া না দেখান তখন সে যে কোন তুচ্ছ বিষয়ের অজুহাতে আপনার সাথে তাচ্ছিল্য - ব্যাঙ্গ - উস্কানি মূলক কথা শুরু করবে যাতে তার সাথে আপনি ঝগড়া শুরু করেন। ব্যাস, তাকে আর পায় কে? সে সবাইকে বলে বেড়াবে যে আপনি খারাপ/তার সাথে ঝগড়া করেন। অথচ তার উস্কানিতেই ঝগড়া শুরু হয়েছে ব্যাপারটি সে বেমালুম চেপে যাবে। অথবা অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ তুলে সে এত দ্রুত কথা/ঝগড়া করা শুরু করবে যে আপনি মূল প্রসঙ্গ টেনে আসল পরিস্থিতি বলার বা আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোন সুযোগই পাবেন না। 


          একজন নার্সিসিস্ট হলো সেই ব্যক্তি, যে সচরাচর নিজের নাক কেটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করে।


          আপনি একজন নার্সিসিস্ট'কে গরমের দিনে নিজের এয়ারকন্ডিশন্ড ঘরে ডেকে এনে আপনার সবচেয়ে সুন্দর ডিজাইন করা দামী গ্লাসে বাগানে নিজের হাতে লাগানো এবং বড় করা গাছের কাগজি লেবু কেটে মিষ্টি ঠান্ডা শরবত বানিয়ে খেতে দিয়ে পাশের ঘরে গেলেন আরো আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে। ঐ নার্সিসিস্ট আপনার বানানো শরবত এক নিমিষে সাবাড় করে ঐ গ্লাসের ভিতর ঘরের কোনা থেকে কোন ময়লা বা টিকটিকির বিষ্ঠা দিয়ে রাখবে এবং আপনি এলেই দেখিয়ে বলবে যে, সে শরবত খেয়েছে কিন্তু গ্লাসের তলায় এই ময়লা ছিল। সে চাইবে, যাতে আপনি তাকে ময়লাযুক্ত শরবত খাওয়ানোর জন্য হীনমন্যতা এবং আত্মগ্লানিতে ডুবে যান এবং তাকে ময়লাযুক্ত শরবত খাওয়ানোর বিষয়টি ভুলিয়ে আপনি অন্য বিষয়ে আরো খুশি করার চেষ্টা করেন। এবং এই নার্সিসিস্ট, কারনে -অকারনে ময়লাযুক্ত শরবত খাওয়ানোর প্রসঙ্গটি তুলে/খোঁটা দিয়ে আপনার মধ্যে অপরাধ বোধ জাগিয়ে চেষ্টা করবে আপনাকে নিয়ন্ত্রন করে নিজের ফায়দা লোটার। 


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট সবসময় আপনার অতীতের এমন কিছু বিষয় সবাইকে বলে বেড়াবে যাতে আপনি ছোট হয়ে আত্মগ্লানীতে ভোগেন।



          ৪) আত্ম অহমিকা, অহং বোধ বা অহংকারের কিছু বিষয় আমাদের সবার মধ্যে কিছুটা থাকলেও নার্সিসিস্টদের মধ্যে আত্ম অহংকারের দাম্ভিকতা/ARROGANCE খুব প্রকটভাবে দেখা যায়। তারা নিজেদের সামনে অন্য কাউকে মানুষ হিসেবে দাম দেয় না। নিজেকে ছাড়া অন্য সবার ভিতরেই ভুল-ভ্রান্তি-দোষ-ত্রূটি দেখিয়ে সবাইকে তা ফলাও করে প্রচার করে থাকে যাতে নিজেকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে দেখানো যায়। 


          যেকোন কাজে একজন নার্সিসিস্টের কোন অবদান/গুরুত্ব থাক বা না থাক বা যতটুকুই থাক, সে ছলে-বলে-কৌশলে সবসময় চেষ্টা করে সেই কাজে সম্পৃক্ত অন্য সবাইকে হেয়/ছোট/DOMINATE করে নিজেকে গুরুত্বপূর্ন/বড় হিসেবে প্রতিষ্টা করতে। 


          যেমনঃ দোকানে বাঁকী কিনে টাকা পরিশোধ না করা এবং টাকা পরিশোধের নামে ঘোরানো, নিকটাত্মীয়দের অর্থ-সম্পদ লোপাট, মিথ্যা কথা বলে আমানতের খেয়ানত, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি। 

          যাতে করে নার্সিসিস্টের পেছনে তার শিকার/VICTIM নিয়মিত তাগাদা বা নিজের জিনিসের মূল্য পরিশোধের জন্য বা নিজের আমানত ফিরিয়ে নিতে বা কাজের জন্য বারবার ঘোরে। তার কাজে অন্য মানুষ যতই কষ্ট পাক না কেন, একজন নার্সিসিস্ট নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ন মনে করতে বা আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে লোক দেখাতে, পারেনা এমন কোন কাজ নেই। 


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট সবসময় নিজেকে সবজান্তা মনে করে এবং বিশ্বাস করে তার নিজের কোন কাজেই সামান্যতম কোন ভুল নাই।



          ৫) একজন নার্সিসিস্টের কোন সত্যিকারের বন্ধু-বান্ধব নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোন ব্যক্তি তাকে আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে তার পিছে ঘোরে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির সাথে নার্সিসিস্টের সম্পর্ক থাকে। অথবা অন্য কথায় বলা যায়, একজন নার্সিসিস্ট ততক্ষণ পর্যন্তই অন্য কারো সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রন/প্রভাবিত/হেয়/ছোট (CONTROL/MANUPULATE/DOMINATE) করে নিজের অহমিকাকে ফুলিয়ে বড় (EGO BOOST) 

          করতে পারে । 


          একজন নার্সিসিস্ট, সমাজে নিজের সমমান বা তার থেকে উচ্চমানের মানুষদের বাদ দিয়ে নীচুমানের মানুষদের সাথে মেলামেশা করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। কারন নিজের থেকে নিচুমানের মানুষদের সহজেই প্রভাবিত করে নিজেকে বড়/SUPERIOR হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, দাম পাওয়া যায় এবং আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়। ক্ষেত্র বিশেষে সুবিধা অনুযায়ী একজন নার্সিসিজম রোগীকে 'শক্তের ভক্ত-নরমের যম' হিসেবেও অন্যের সামনে আবির্ভুত হতে দেখা যায়।


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট খুবই কুটিল-জটিল মনের অধিকারী (MEAN - COMPLEX MINDED), সে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হতে চায় (COLTROL FREAK) এবং তার কাছে আপনার চাওয়া-পাওয়া-আবেগ-অনুভূতির কোন দাম নাই।



          ৬) অন্যকে ব্যবহার করে অন্যের কাছ থেকে কাজ করে নেওয়াতে একজন নার্সিসিস্টের কোন জুড়ি নেই। খেয়াল করলেই দেখবেন যে, সুন্দর-সুন্দর কথা বলে বা কাকুতি-মিনিতি-হাহাকার-আফসোস (নিজেকে VICTIM হিসেবে উপস্থাপন)'এর মাধ্যমে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিখুত মুখভঙ্গী/কান্না/হাসি/অভিনয়'এর মাধ্যমে অন্যকে প্রভাবিত করে একজন নার্সিসিস্ট সহজেই শুধু মাত্র নিজের স্বার্থ অনুযায়ী অন্যকে দিয়ে কাজ হাসিল করিয়ে নেয়। 


          নিজে না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করালে সুবিধা হলোঃ সেই কাজের যেকোন ভুল-ত্রূটি বের করে যে ব্যাক্তি (বা ব্যাক্তিরা) ঐ নার্সিসিস্টকে কাজটি করে দিয়েছিল, তাকে সহজেই দোষ দিয়ে দোষী বানানো যায় এবং তাকে বারবার ঐ কাজের ভূল-ত্রূটির বিষয় উল্লেখ করে/খোঁটা দিয়ে, তার মধ্যে অপরাধবোধ জাগিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট আপনাকে হীনমন্যতায় ডুবিয়ে আপনার মধ্যে অপরাধ বোধ জাগিয়ে আপনাকে এমন হেয় করবে যে আপনি নিজের পরিচয়ে নিজেই লজ্জায় কুঁকড়ে যাবেন।



          ৭) নার্সিসিজম রোগে আক্রান্ত একজন রোগী সবসময় চায়, সবাই তাকে আসরের মধ্যমণি হিসেবে দেখুক। সবাই তার দিকে দৃষ্টি দিক। যখনই সে দেখে অন্য কেউ তার থেকে বেশি মনোযোগ (ATTENTION) পাচ্ছে, তখনই সে নিজের প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করতে অস্বাভাবিক কাজ শুরু করে। 


          যেমনঃ আপনি (না জেনে/চিনে) একজন নার্সিসিস্টকে বন্ধুদের সভায় সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেই সভার মূল বিষয়ের আলোচনার প্রাক্কালে ঐ নার্সিসিস্ট চেষ্টা করবে যে কোন উপায়ে (অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গে অনর্গল কথা বলে বা সেই ঘরে থাকা কোন ছবি/ক্যালেন্ডার/স্যুভেনির ইত্যাদি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কথা বলে বা টেবিল/চেয়ার ঠুকে শব্দ করে বা নিজে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করছে, ইত্যাদি) নিজের দিকে সবার দৃষ্টি ফেরাতে।


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট আপনাকে ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগত/সামাজিক ভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে যে আপনি মনে-মনে বা সবার সামনে চরম অপমানিত, মানসিক ভাবে আহত এবং প্রতারিত হলেও সরাসরি কাউকে ঐ নার্সিসিস্টের কোন দোষই দেখাতে পারবেন না, মনে হবে সব দোষই আপনার নিজের।



          ৮ ) আপনি মানেন বা না মানেন, একজন নার্সিসিস্ট মনে-প্রানে বিশ্বাস করে সে সবার থেকে বড় (SUPERIOR COMPLEX)। প্রথমদিকে সে আপনার সাথে বর্ণচোরা বন্ধুবেশে মেলামেশা শুরু করলেও তার কথা এবং কাজে আপনি প্রমান পেতে শুরু করবেন যে একজন অসুস্থ নার্সিসিস্ট। 


          সে নিজেকে সবকিছুতেই সর্বজ্ঞানী (EXPART) হিসেবে উপস্থাপন করে চেষ্টা করবে আপনাকে নিজের মতো করে পরিচালনা করে কাজ করাতে। আপনি যদি তাকে সম্পুর্ন অজানা বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন, সে না জানলেও বলবে সে জানে তবে আজ নয় পরে বলবে। যাতে করে তার দিকে আপনি মনোযোগ (ATTENTION) দিয়ে রাখেন।


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্টকে সনাক্ত করতে পেরে আপনি আপনার কোন কাজে তাকে বাধা দিলেও সে কিছুটা বিরতি নিয়ে সময় বুঝে অন্য ভূমিকা/চরিত্র'এর বেশ ধরে আপনার কাছে সেই পুরনো রাগ নিয়ে ক্ষতি করতে বারবার ফিরে আসার চেষ্টা করবে। সে আপনাকে অর্থ-সম্পত্তির প্রলোভন দিতেও পিছপা হবে না। তাকে সুযোগ দেবেন তো তার ফাঁদে ধরা পরবেন।  



          ৯) অন্যকে প্রভাবিত (MANUPULATE) করতে একজন নার্সিসিস্টের খুবই কমন ডায়লগ হলো, 'আর ক'দিনই বা বাঁচব?' বা 'আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা' বা 'আর কোন দিন তোমাকে বলব না' বা 'নিজের কাল্পনিক শারিরীক অসুস্থতার অজুহাত' বা 'তোমার বয়সে আমি এটা/সেটা করেছি' বা 'তোমার জায়গায় আমি হলে এটা/সেটা করতাম' বা 'আমার নিকটাত্মীয় মারা গেছে বলে কোন সুবিধা আদায়' বা 'আগামী অমুক বিশেষ দিনের পরে এই কাজ শুরু করবো (মিথ্যা অজুহাত)' ইত্যাদি। 


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট খুবই আত্মকেন্দ্রিক। তার সবকিছুই সে নিজে কি ভাবে, কি চায়, কি অনুভব করে ইত্যাদি ঘিরে। তার সঙ্গে যে'ই থাক না কেন তার/তাদের মতামত-ইচ্ছা-অনিচ্ছা সবকিছুই তুচ্ছ। 



          ১০) নার্সিসিস্টরা সবসময় মিথ্যাবাদী। তাদের পুরো দুনিয়াটাই মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। তাদের কাজে এবং কথায় সহজেই এটি ধরা যায়। খুবই নীচ স্বভাবের কারনে চুরি করে/ইচ্ছা করে/আড়ি পেতে কারো (বিশেষ করে পরিবারের কাছের মানুষদের) গোপন বিষয় (পোষাক বদল,গোসল, একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়/সময়) দেখা/ছবি তোলা, অন্যের ব্যক্তিগত চিঠি-ডায়েরী আত্মসাৎ করা এবং সেগুলি পড়া এবং পরবর্তী সময়ে তার শিকার/(VICTIM)-কে জানানো যে সে তার গোপন বিষয়গুলি জানে, ইত্যাদি একজন নার্সিসিস্টের জন্য খুবই সাধারন ব্যাপার।


          এ ভাবে একজন নার্সিসিস্ট তার শিকার/(VICTIM)-কে সবার সামনে বা গোপনে লজ্জাজনক/ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতিতে ফেলে ব্ল্যাকমেল করে গোপনে/সবার সামনে ছোট করে/(DOMINATE) তাকে নিয়ন্ত্রণ/ (CONTROL) করার চেষ্টা করে।


          মনে রাখবেনঃ একজন নার্সিসিস্ট আপনার কষ্ট দেখে-শুনে আনন্দ পায় এবং এই কারনেই সে আপনার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে যাতে আপনি যেভাবেই হোক যেন কষ্ট পান। এটিই তার বিনোদন। বন্ধু-শুভাকাংখী-পরোপকারীর ভুমিকায় এসে সবসময় সে আপনার সুবিধার চেয়ে অসুবিধা-সমস্যার কথা বেশি শুনবে এবং কোন বাস্তব সমাধান না দিয়ে সবজান্তার ভান করে সেগুলি নিয়ে ডিটেইল আলোচনা করবে যাতে করে মনে মনে সে নিজেকে আপনার চেয়ে সুখি তুলনা করে আত্মতৃপ্তি পায়। তার সাথে আপনার সুবিধার কথা আলোচনা করলে সে চেষ্টা করবে সেগুলি যে ভাবেই হোক নষ্ট করার এবং আপনার কাছ থেকে সরিয়ে নিজে পাবার।



          নিশ্চয় আপনি বুঝে গেছেন কিভাবে একজন নার্সিসিস্টকে চিহ্নিত করা যায়। 


          আসুন এখন দেখি কেন একজন মানুষ নার্সিসিস্টে পরিনত হয় এবং কিভাবে তার কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।



          প্রত্যেক মানুষের জীবনেই শৈশব, বয়ঃসন্ধি এবং কৈশোর তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে খুব বড় ভূমিকা রাখে। যে ব্যক্তি শৈশব থেকে পরিবারে খুব আদরে এবং অন্যের কাছ থেকে খুব বেশি মনোযোগ পেয়ে অভ্যস্ত, তারা বড় হয়েও সেই আদর এবং মনযোগের কাঙ্গাল হয়। আবার যারা একেবারে অনাদরে এবং অমনোযোগে বেড়ে ওঠে, তারাও বড় হয়ে অন্যের কাছ থেকে আদর এবং মনোযোগ পাবার চেষ্টা করে। কিন্তু বড় হবার পর সমাজে যখন সে নিজের যোগ্যতার চেয়ে বেশি দাম পায় না, তখন সে নিজের হীনমন্যতা ঢাকতে - নিজের কাল্পনিক দাম পেতে পরিবার, কাছের মানুষ এবং সদ্য বা স্বল্প পরিচিতদের সাথে মনের খেলা (MIND GAME) শুরু করে প্রভাবিত করে নিজের কাল্পনিক দাম  বাড়ানো/আকর্ষনের কেন্দ্র হতে চেষ্টা করে। মূলত, এ কারনেই একজন নার্সিসিস্টের জন্ম হয়। 


          সেই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্বভাব, রুচি, অভ্যাস, পরিবার, সামাজিক পরিবেশ দিনে-দিনে তাকে মানুষের শরীরের আড়ালে মানসিক ভাবে অমানুষে পরিনত করে। একজন নার্সিসিস্ট কিছুতেই বুঝতে পারে না অন্য মানুষদেরকে (বেশিভাগ ক্ষেত্রে নিজ পরিবারের সদস্যদের উপর এবং কর্মক্ষেত্রে অধঃস্থনদের উপর) মানসিক অত্যাচার - অকারনে হয়রানি, কাজের ছেলে/মেয়েদের - সন্তানদের - আশ্রিতদের বেধড়ক মারপিট, পোষা প্রানীদের উপর অকারনে অত্যাচার বা মেরে ফেলা ঠিক না। তার মধ্যে অন্য যেকোন জীবের প্রতি কোন দয়া (PITTY), সহানুভূতি (SYMPATHY) এবং সহমর্মিতা (EMPATHY) কাজ করে না। 


          জন্মগতভাবে যখন এই মানবিক বোধগুলি/ মানবীয় গুণাবলী একজন নার্সিসিজম রোগীর মধ্যে থাকেনা তখন সে একজন সাইকোপ্যাথ (PSYCHOPATH)'এ পরিণত হয়। আর যখন সামাজিক পরিবেশের প্রভাবে এই মানবিক বোধগুলি/ মানবীয় গুনাবলী একজন নার্সিসিজম রোগীর ভিতর থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় তখন সে সোশিওপ্যাথ (SOCIOPATH) 'এ পরিণত হয়। 


          যেহেতু মানসিক রোগ নার্সিসিজমের কোন ঔষুধ এবং প্রতিকার নাই এবং অন্যের অবেগ, অনুভূতি এবং মন নিয়ে খেলা করাই অসুস্থ নার্সিসিজম রোগীর প্রধান কাজ সেহেতু তাকে চিহ্নিত করতে পারলেও তাকে সারাতে/ চিকিৎসা/ বলতে যাবেন না যে সে মানসিক রোগী। হিতে বিপরীত হবে। যদি পরিবারের মধ্যেই নার্সিসিস্ট থাকে তবে চেষ্টা করুন তার সাথে যত কম লেন-দেন, মেলা-মেশা, কথা বলা বা যে কোন বিষয়ে শেয়ার করা যায়। 


          মনের ভিতরে একজন ভিরু-হীনমন্য-নীচ এবং অত্যাচারী নার্সিসিস্টের বাইরের চরিত্রের সবকিছুই তার মুখোশ। আর সেই মুখোশ দেখতে তার আয়নার প্রয়োজন। আপনার উপর তার মানসিক খেলা/ (MIND GAME)’এর প্রতিফলন এবং প্রভাবই হলো সেই আয়না, যার মাধ্যমে সে নিজেকে আপনার নিয়ন্ত্রক হিসেবে অনেক বড় করে দেখে। 


          চেষ্টা করুন একজন নার্সিসিস্টকে সম্পূর্নভাবে এড়িয়ে চলতে। ব্যাক্তিগতভাবে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এড়িয়ে চলুন। সহানুভূতি নিয়ে সাহায্য করার জন্য একজন নার্সিসিস্টের পাশে দাঁড়াবেন তো তার ফাঁদে ধরা পরবেন।


          28 August 2011

          নববর্ষ ১৪১৪ ' মস্কো

          প্রথম প্রকাশঃ ১৫/৪/২০০৭


          মহা সাড়ম্বরে মস্কো' তে বাংলাদেশী ছাত্রসংগঠন গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় রাশিয়া 'র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা বর্ষবরণ ১৪১৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ তঃক্লাব মিলনায়তনে তিনঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিরা ছিলেন ডেপুটি চীফ অফ মিশন বাংলাদেশ রেজিনা আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-রেক্টর আ.ভ . এরমাকভ, চেম্বার অফ কমার্স রাশিয়া এর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আরজু মিয়া, বাংলাদেশী ছাত্রসংগঠনের সভাপতি কাজী শিবলী সুমন এবং এশিয়ান ছাত্রসংগঠনের সভাপতি বিপ্লব চন্দ্র সাহা।




          কোরান তেলয়াত, জাতীয় সঙ্গীত এবং বিশেষ অতিথিদের ভাষনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সবাই পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে যেয়ে নতুন বছরে নব উদ্দীপনায় সামনে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানান। বাংলায় শুভ নববর্ষ, ইংরেজীতে হ্যাপী নিউ ইয়ার এবং রাশিয়ান ভাষায় স্নোভিম্‌ গোদাম্‌ বলে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে অভ্যাগত বিদেশি অতিথিবৃন্দ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝার সুবিধার্থে ডেপুটি চীফ অফ মিশন বাংলাদেশ রেজিনা আহমেদের ভাষন রাশিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে পাঠ করা হয়।

          বাংলাদেশী এবং রাশিয়ান ভাষায় চমৎকার অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় শুরু হয় মূল পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজেশ, জুয়েল এবং মাহবুবের বাংলা গানের পাশাপাশি বিদেশি শিল্পীদের পরিবেশিত হিন্দী, মারাঠী, পাঞ্জাবী, আরবী, ল্যাটিন, রাশিয়ান এবং ইংরেজী নাচ আর গানে মেতে ওঠে মিলনায়তন। মূহুর্মূহু করতালির মাধ্যমে প্রকাশিত হয় অতিথিদের উচ্ছ্বাস। এটি বাঙ্গালী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী অতিথি এবং ছাত্র-ছাত্রী । মিলনায়তনে উপস্থিত সবার জন্য আপ্যায়নের ব্যাবস্থা ছিল অনুষ্ঠানের বাড়তি চমক।

          “উই লাভ বাংলাদেশ, উই লাভ ক্রিকেট”

          প্রথম প্রকাশঃ ৯/৪/২০০৭ দৈনিক যুগান্তর।






          পড়াশুনা এবং বসবাসের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই বাংলাদেশীরা অবস্হান করছেন। তেমনি প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন বা বর্তমানের রাশিয়ান ফেডারেশনেও বসবাস করছেন বেশ কিছু বাংলাদেশী। এদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখাই বেশী।

          বাংলাদেশ থেকে আগত ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশই পড়ছেন রাজধানী মস্কোতে অবস্থিত "রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্দ্যালয়ে"। অন্যান্য ইউনিভার্সিটি এবং স্টেটে তুলনামূলক কম বাংলাদেশীদের অবস্হানের কারনে এই ইউনিভার্সিটিকে বাংলাদেশী কম্যূনিটির প্রাণকেন্দ্র ধরা হয়।

          ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে অন্যান্য দিনের মতই 17'ই মার্চের সকাল শুরু হলেও প্রতিটি বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ম্যাচ। আমাদের দেশে প্রতিটি ক্রিকেট দলভূক্ত দেশের আলাদা সমর্থক থাকলেও মস্কোর প্রবাসী বাংলাদেশীদের ছিল একটাই ফেভারেট দল "বাংলাদেশ"।

          যেহেতু রাশিয়ায় ক্রিকেট খেলা তেমন জনপ্রিয় নয়, সেহেতু স্হানীয় টিভি চ্যানেলের উপর ভরসা না করে অধিকাংশই খেলা উপভোগ কোরেন স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং ইন্টারনেটে। খেলা চলাকালীন সময়ে যারা টিভি বা কম্পিউটারের সামনে বসার সুযোগ পাননি, তারা মোবাইল ফোনে শুনে নিচ্ছিলেন "স্কোর"। বাংলাদেশী "টাইগার"দের প্রতিটি রান এবং ভারতের প্রতিটি উইকেটের পতনে বাংলাদেশী ছাত্রদের উল্লাসে কেঁপে উঠছিল ইউনিভার্সিটির আবাসিক হোস্টেলগুলো। অন্যান্য দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা যারা ক্রিকেট বোঝেন এবং ভালবাসেন, তারাও যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশীদের আনন্দে।


          বাংলাদেশ জেতার প্রায় সংগে সংগেই ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস সংলগ্ন "মিকলুখো মাকলায়া" রাস্তায় বিজয় মিছিলে নেমে পরে প্রতিটি বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী। বাইরে তখন মাত্র এক (1') ডিগ্রী তাপমাত্রা। মধ্যরাতে লাল সবুজের পতাকা এবং ঊল্লাসধ্বণীতে মুখরিত হয় পূরো উইনিভার্সিটি এলাকা। ক্যাম্পাসে বসবাসরত উৎসূক রাশিয়ান এবং বিদেশীরাও জেনে নিচ্ছিলেন আনন্দের কারন। বাংলাদেশীদের হৃদয়ের উষ্ণতায় তারাও যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিজয় মিছিলে। আর সবার মুখে ছিল একটাই স্লোগান: "উই লাভ বাংলাদেশ, উই লাভ ক্রিকেট"।

          22 August 2007

          ব্লগিং করুন এবং বিনামূল্যে ব্লগের ভিজিটর বাড়ান


          ইন্টারনেটে নিজের মত প্রকাশের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ওয়েব লগ বা সংক্ষেপে “ব্লগ”। ব্লগে আপনি প্রতিদিনের দিনলিপি, বন্ধু-বান্ধবদের উদ্দেশ্যে মেসেজ, ছবি, অডিও, ভিডিও, কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনসহ সকল প্রকার ব্যাক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং বানিজ্যিক ওয়েবসাইটের সকল সুবিধা ব্যাবহার করতে পারেন। তাই একে ব্যাক্তিগত বা বানিজ্যিক যেকোন ভাবে ব্যাবহার করা যায়। পূর্বে এই কাজগুলি করতে ওয়েবপেজ তৈরী করতে হতো। এর জন্য দরকার হতো ওয়েব প্রোগ্রামিং সম্বন্ধে জ্ঞান এবং নিয়মিত পুরো ওয়েবপেজের আপডেট। কিন্তু ব্লগ বদলে দিয়েছে সবকিছু। কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সম্বন্ধে যার নূন্যতম জ্ঞান আছে সেই ব্যাক্তিও ব্লগিং করতে পারে। ব্লগিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কোন কিছু জানতে বা জানাতে ব্লগার (যে ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্লগ) কে ঘটা করে ই-মেইল করার দরকার নেই। আপনি ব্লগের কমেন্টস্‌ এর ঘরে প্রয়োজনীয় মেসেজ বা নির্দেশ দিতে পারেন। তবে আপনার কমেন্টস্‌ যেহেতু ঐ ব্লগের ভিজিটকৃত সকল ভিজিটররা ইচ্ছা করলে দেখতে পারবে তাই একান্ত ব্যাক্তিগত বা গোপনীয় কোন বিষয়ে কমেন্টস্‌ না লেখাই ভালো।


          বর্তমানে সব বিখ্যাত ওয়েবপোর্টাল যেমনঃ গুগল এর ব্লগার, ইয়াহু এর ৩৬০, এমএসএন/লাইভ এর লাইভস্পেস ইত্যাদি সহ প্রায় সকল ওয়েবপোর্টাল সম্পুর্ন বিনামূল্যে ব্লগ তৈরী করার সুবিধা দিচ্ছে। ইংরেজী ব্লগের পাশাপাশি বেশ কিছু বাংলা ব্লগপোর্টালও ইদানিং বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সামহয়্যার ইন ব্লগ, সচলায়তন, এভারগ্রীন বাংলা, প্যাঁচালি ইত্যাদি। বিষয়ের বিভিন্নতার কারনে ব্লগেরও রয়েছে নানা রকম ফের। যেমনঃ ব্যাক্তিগত ব্লগ, বানিজ্যিক ব্লগ, ট্রাভেল ব্লগ, ফটো ব্লগ, ভিডিও ব্লগ ইত্যাদি।


          আপনার ব্লগ তৈরী হলেই আপনি চাইবেন সেটা অন্যে দেখুক। তাই আপনার ব্লগে কতজন ভিজিটর আসবে সেটা একটি গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। এর উপর নির্ভর করছে সেই ব্লগের জনপ্রিয়তা। সাধারনত আমরা কোন সার্চ ইঞ্জিনে ব্লগের লিংক সাবমিট করে ঐ ব্লগের ভিজিটর বাড়ানোর চেষ্টা করি। এতে সার্চ ইঞ্জিনের সার্চকৃত শব্দের সাথে আপনার ব্লগের ডিসিক্রিপশন বা মেটা ট্যাগ এর শব্দ মিলে গেলে ঐ সার্চ ইঞ্জিনে যেকোন পাতায় আপনি আপনার ব্লগ এড্ড্রেস দেখতে পাবেন। কিন্তু বেশি ভাগ ক্ষেত্রে এটিকে বিনামূল্যে পাওয়া সম্ভব হয় না। আবার অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও টেকনিক্যাল কারনে (ক্রেডিট কার্ড বা পে-প্যালের মাধ্যমে টাকা পাঠানো) সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে একটি ব্যাপার বলে রাখা ভাল যে, হয়তো আপনি প্রতিদিন একশ নতুন ভিজিটর পাবেন। কিন্তু তারা কি পূনরায় আপনার ব্লগ ভিজিট করবে? পুরনো ভিজিটরের আপনার ব্লগে পূনরায় ভিজিট করা কে আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা প্রমান করে। আসুন দেখা যাক কিভাবে বিনামূল্যে আপনার ব্লগের ভিজিটর এবং জনপ্রিয়তা বাড়াবেন।


          [*] আপনি যখন অন্যের ব্লগ ভিজিট করবেন, ভাল-মন্দ যা-ই মনে আসে তা-ই কমেন্ট করুন। আপনি ঐ একই ব্লগ পোর্টালের ব্লগার হলে এবং লগইন করা থাকলে আপনার নিক এর নিচে আন্ডারলাইন হয়ে আপনার ব্লগ এড্ড্রেস (url) দেখাবে। অন্য সাইটের ব্লগার হলে নাম এর পর অবশ্যই আপনার ব্লগ এড্ড্রেস (url) রেখে আসবেন। এতে ঐ ব্লগার এবং কমেন্ট দর্শনকারীরা অনেকেই আপনার ব্লগ ভিজিট করবে।


          [*] দৈনন্দিন জীবনের নিত্য নতুন বিষয় নিয়ে লিখুন। লেখার মধ্যে বৈচিত্র রাখুন। চিন্তা করে দেখুন আপনার আশেপাশের মানুষ কী নিয়ে ভাবছে। অন্যান্য ব্লগ ভিজিট করেও আপনার চিন্তার খোরাক যোগাতে পারেন। অনেক সময় দেখবেন কোন ব্লগার লিখেছেন মাত্র এক/দুই লাইন কিন্তু কমেন্টস্‌ পেয়েছেন তিরিশ/চল্লিশেরও বেশি। আবার কেউ অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় আর্টিকেল লিখেও কোন কমেন্টস্‌ পায়নি। এই সবই হয় লেখার বিষয় এবং বৈচিত্রের কারনে।


          [*] বিভিন্ন ফোরামে অংশগ্রহন করুন। অনেকেই ছদ্মনামে ব্লগিং করে। ঐ নামেই হয়তো তারা জনপ্রিয়। কিন্তু নিজেকে তুলে ধরুন। বিভিন্ন ফোরামে উপস্থাপন করুন আপনার লেখার বিষয়। ফোরামের সদস্যদের ভাল লাগলে তারাও নিয়মিত আপনার ব্লগ ভিজিট করবে।


          [*] আপনার ব্লগ বিভিন্ন ওয়েব ডাইরেক্টরিতে সাবমিট করুন। অনেকে বিনামূল্যে এই সুবিধা দেয়। ঐ সব ডাইরেক্টরিতে রেজিস্ট্রেশন করুন। আপনার ব্লগ কোন ক্যাটাগরীতে পরে তা ঠিক করুন। তাদের ছোট্ট বাটন আকারের বিজ্ঞাপন আপনার ব্লগের কোথাও বসিয়ে (পেস্ট করে) আপনার ব্লগ এড্ড্রেস (url) তাদের সাথে বিনিময় করুন। এতে তারা আপনার ব্লগ কে কোন সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিট করবে।


          [*] ব্লগ নিয়মিত আপডেট করুন বা নতুন কিছু লেখুন। অনিয়মিত যেন নিয়মিত না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। কোন কারনে কিছুদিন লিখতে না পারলে নতুন লেখায় ধারনা দিন ঐ সময়ে কি করেছেন। তাহলে পাঠক এটাকে স্বাভাবিক ভাবে নেবে।


          [*] লিখুন আপনি নিজে কিভাবে ব্লগিং করছেন। কিভাবে শুরু করলেন, পপুলার হলেন, ভিজিটর বাড়ালেন সব খোলা খুলি লিখুন। ব্লগিং এ সবার অধিকার সমান। আপনার লেখায় অন্যকে ব্লগিং এ উৎসাহী করুন এবং পরামর্শ দিন।


          [*] নতুন কিছু জানলে বা ব্রেকিং নিউজ পেলে সঙ্গে সঙ্গে আপনার ব্লগে পোস্ট করুন।


          [*] ব্লগে কোন প্রতিযোগিতা রাখতে পারেন। আপনি কোন প্রশ্ন করবেন এবং কমেন্টস এর ঘরে ভিজিটিররা উত্তর দিবে। সময় বেঁধে দিবেন। যার সঠিক উত্তর আগে পাবেন সেই প্রথম। প্রশ্নগুলো মজার হলে সবাই অংশগ্রহনে উৎসাহ পাবে।


          [*] খুবই ভাল মানের লেখার চেয়ে প্রত্যেক লেখার একই মান ধরে রাখুন। তাহলে ঐ মানসিকতা সম্পন্ন সকল পাঠক নিয়মিত আপনার ব্লগ ভিজিট করবে।


          [*] ব্লগের নতুন পোস্টের লেবেল/ট্যাগে ঐ লেখা সম্পর্কিত শব্দ ব্যাবহার করতে ভুলবেন না।


          [*] অনেক ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন (Free classified) দেওয়া যায়। সেই সব ওয়েবসাইটে আপনার ব্লগের এড্ড্রেস (url) দিয়ে বিজ্ঞাপন দিন।


          [*] ইন্টারনেট ব্যাবহার করে এমন পরিচিত সবাইকে ই-মেইলের মাধ্যমে আপনার ব্লগের কথা জানান এবং এড্ড্রেস (url) দিন।


          [*] ব্লগে কাউকে হেয় করবেন না। কোন ব্যাক্তি, দেশ, জাতি, ধর্ম নিয়ে কোন আপত্তিজনক লেখা এবং পোস্ট করবেন না।


          [*] চেনা পরিচিত সবার সম্মানসূচক প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ প্রকাশ করে ব্লগে পোস্ট করুন। বিভিন্ন বিশেষ দিনে (জন্মদিন বা ম্যারেজ ডে) ব্যাক্তিগত ভাবে প্রত্যেক কে আলাদা করে অভিনন্দন জানান। দেখবেন তারা নিজেরা আপনার ব্লগ দেখবে, তাদের সম্পর্কে আপনার প্রশংসা অন্যকে দেখাবে এবং তাদের চেনা জানা অন্যদেরও দেখতে বলবে। তারা সবাই পরোক্ষভাবে আপনার ব্লগ প্রচারের ভুমিকা রাখবে।


          [*] ব্লগ কে আকর্ষনীয় রাখতে সবসময় পোস্টের লিখিত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ছবি দিতে ভুলবেন না। ছবি সহ ব্লগ, ছবিহীন এর চেয়ে অনেক বৈচিত্রপূর্ন।


          ব্লগ আপনার মন মানসিকতার প্রতিচ্ছ্ববি। ব্লগ দেখেই বোঝা যাবে আপনি কী চিন্তা করছেন। তাই ব্লগ কে পরিচ্ছন্ন এবং সুস্থ রাখুন।

          20 August 2007

          কিভাবে আত্মজীবনী লিখবেন


          বাস্তব জীবনে প্রত্যেক মানুষ নানা ঘটনার সম্মুখীন হয়। তার কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ। জীবন কখনও একঘেয়ে ক্লান্ত আবার কখনও রোমাঞ্চকর সুখময়। প্রত্যেক মানুষ চায় তার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অন্যে জানুক এবং ব্যাক্তি জীবনে প্রয়োগ করুক। আবার অনেকের জীবন এতই ঘটনাবহুল যে অন্যে জেনে সহজেই আকৃষ্ট হয়।
          বেশিভাগ আত্মজীবনী শেষ বয়সে লেখা হয়। এতে একসাথে জীবনের প্রায় সব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা যায়। আবার অনেকে কম বয়সেই শুরু করেন। তারা জীবনের প্রতিটি ধাপের আভিজ্ঞতা একের পর এক লিখে যায়। আসুন দেখা যাক কিভাবে আত্মজীবনী লেখা যায়।

          [*] জীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা নিন। যেমনঃ শৈশব, কৈশর, তারুন্য, যুবাকাল, বিবাহিত জীবন, পরিবার-সন্তান, চাকুরী/কর্মজীবন,পরিবারের পূর্ণতা (সন্তানদের বিয়ে এবং তাদের সন্তানলাভ), বন্ধু-বান্ধব, জীবনসাথী, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বাস্তবজীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ইত্যাদি।

          [*] বাস্তব জীবন থেকে পাওয়া ভাল আভিজ্ঞতাগুলি বিশদ বর্ননা করুন যাতে সবাই সেটা নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে।

          [*] বাস্তব জীবন থেকে পাওয়া খারাপ আভিজ্ঞতাও বিশদ বর্ননা করুন যাতে অন্য কেউ সেটার পুনরাবৃত্তি আর না করে।

          [*] কোন ব্যাক্তির সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার বর্ননায় ঐ ব্যাক্তির সম্পর্কে যত কম তথ্য জানাবেন ততই ভালো।

          [*] আপনার আশে পাশের মানুষদের নিয়ে মন্তব্য করতে সতর্ক থাকুন। কাউকে হেয় করবেন না।

          [*] কারো সম্পর্কে আক্রমনাত্মক বা উস্কানিমূলক কিছু লিখবেন না।

          [*] বেশিভাগ সময় জীবনের ভালো দিক তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।

          [*] আত্মজীবনীর শেষে, জীবনের চলার পথে ক্ষনিকের জন্য হলেও যদি কারো মাধ্যমে ভালো অভিজ্ঞতা বা খারাপ পরিস্থিতির সম্মূখীন হন অথবা তারা আপনার মাধ্যমে, তবে তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা এবং ক্ষমা করে দিতে এবং চাইতে ভুলবেন না। এতে সবার কাছে আপনি উদারমনা, মহানুভব, দয়ালু এবং একজন ব্যাক্তিত্তবান ব্যক্তি হিসেবে স্মরনীয় থাকবেন।

          19 August 2007

          সংবাদপত্রের জন্য ইন্টারভিউ নেবার টিপস


          [*] সবচেয়ে ভাল হয় ইন্টারভিউ “ইন্টারভিউ না হয়ে” শুধুমাত্র আলাপ হলে। এতে করে যার ইন্টারভিউ নেবেন তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। এটিকে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কারো সাথে আলাপ করার পর্যায়ে নিলে প্রশ্নকর্তা এবং উত্তরকারী উভয়ের সুবিধা হয়। তবে এই আলাপ থেকেই ইন্টারভিউকারীকে মূল বিষয়কে ছেঁকে বের করে আনতে হবে।

          [*] পূর্ণ প্রস্তুতি না নিয়ে ইন্টারভিউ নিতে যাবেন না। যার কাছে যে বিষয় নিয়ে ইন্টারভিউ নিতে যাবেন, আগে সেই ব্যাক্তি এবং বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে তথ্য জানুন। একটি মোটামুটি ধারনা নিন। বিষয়টি যদি ঐতিহাসিক হয় তবে ঐ বিষয়ের এখনকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারনা নিন।

          [*] ব্যাক্তি এবং বিষয় বুঝে ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন তৈরী করুন। প্রথমেই যন্ত্রের মত প্রশ্ন শুরু করবেন না। অথবা একটার মূল উত্তর পেয়ে গেলেই পরেরটায় যাবেন না। শুরু করুন গল্পের ছলে। জেরা করার ভঙ্গিতে নয়। প্রশ্নের মূল উত্তর দেওয়ার পরেও যদি উত্তরদাতা কথা চালিয়ে যায় তবে শুনুন এবং তার কথা শেষ হলে নতুন প্রশ্ন করুন। প্রশ্নের উত্তর আপনার ব্যাক্তিগত মতামতের বিরুদ্ধে হলেও নিজের মতামত উত্তরদাতার উপর চাপিয়ে দিবেন না। তাকে সম্মান করুন এবং তার দৃষ্টিকোন থেকেই লিখুন বা প্রকাশ করুন

          [*] যার কাছে ইন্টারভিউ এর জন্য যাবেন তাকে আগে থেকেই বলে রাখুন। তিনি যে সময় দিবেন ঠিক ঐ সময়েই সাক্ষ্যাৎ করুন। কাজের মাঝখানে বিনা নোটিশে কারো কাছে গেলে উভয়েই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন।

          [*] ইন্টারভিউকারী কে অবশ্যই পরিপাটি, মার্জিত এবং পরিস্থিতি বুঝে সঠিক পোষাক পরতে হবে। যে কোন অফিস কার্য্যালয়ে গেলে অবশ্যই আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফর্মাল পোষাক প্যান্ট-শার্ট, স্যুট-টাই পরতে হবে। পহেলা বৈশাখ, ঈদ বা মেলায় ইন্টারভিউ নিতে গেলে পাঞ্জাবী-পায়জামা বা ফতুয়া পরতে পারেন। এছাড়া উন্মুক্তস্থান, হাট-বাজার, ট্যুরিস্টস্পট, সী-বীচে ইন্টারভিউ এর ক্ষেত্রে টি-শার্ট, গেঞ্জী বা আরামদায়ক ক্যাজুয়াল পোষাক পরতে পারেন।

          [*] প্রত্যেকটি ইন্টারভিউ এ অবশ্যই যে তিনটি জিনিস সঙ্গে নেবেন তা হলো কলম/পেন্সিল, নোট নেওয়ার জন্য কাগজ এবং যেকোন পরিস্থিতিতে উত্তর বের করার মানসিকতা। এছাড়া আনুসাঙ্গিক হিসাবে রেকর্ডার, ক্যামেরা এবং সাহায্যকারী কাউকে নিতে পারেন।

          [*] আলাপকারীর কাছে প্রথমেই নিজের পরিচয় দিন। কি কারনে, কোন পত্রিকা/মিডিয়া হতে এবং ইন্টারভিউ ঐ মিডিয়ার কোন অংশে প্রকাশ হবে তাও জানান। এতে উত্তর পাওয়া অনেক সহজ হবে।

          18 August 2007

          হাইকু কবিতা


          জাপানী ভাষায় হাইকু লেখার ধরন সহজ। কিন্তু অন্য ভাষার জন্য ঐ নিয়ম সামান্য ভিন্ন। বিদেশী ভাষায় হাইকু লেখার ধরন সম্বন্ধে একেক জনের একেক রকম মতামত। আসুন এই কবিতা লেখার প্রাথমিক ধরন নিয়ে আলোচনা করি।


          হাইকু’র বিষয়ঃ যেকোন কিছু হাইকু কবিতার বিষয় হতে পারে। সাধারন মানুষের অজানা এবং উপলব্ধির বাইরের বিষয়ে হাইকু খুব কমই আছে। কিছু দুর্দান্ত কবিতায় দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা এমন আকর্ষনীয় এবং সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে পাঠকরা সহজেই চমৎকৃত হবেন।


          হাইকুর ছন্দঃ হাইকু কবিতা হয় তিন লাইনে এবং প্রত্যেক লাইনে থাকে পাঁচ, সাত এবং পাঁচটি করে শব্দ। প্রথম থেকে তৃতীয় লাইন পর্যন্ত যথাক্রমে পাঁচ, সাত এবং পাঁচটির বেশি শব্দ থাকা চলবেনা। তবে কম শব্দ হলেও চলে।


          ভাষার ভিন্নতা, ব্যাকরন এবং বৈচিত্রের কারনে হাইকু একেক দেশে একেক রকম করে লেখা হয়। সঠিক বিন্যাসে সতেরটি শব্দের মধ্যে মাত্র তিন লাইনের হাইকু কবিতা হতে পারে খুবই বৈচিত্রময়।


          স্বরচিত হাইকু

          ১.
          মোমের শিখার উথ্বাল নাচের পানে
          তাকিয়ে থাকি অবাক চোখে আমার আমি
          উত্তর জানে প্রশ্নের আমার অন্তর্যামী।

          ২.
          চোখগুলো তার কাল মেঘের মতো
          ইচ্ছে করে তাকিয়ে থাকি সারা জীবন
          না পেয়ে হৃদয় মাঝে ক্ষত।

          ৩.
          অনেক আশায় বেঁধেছিলাম তাসের ঘর
          সেই ঘরেতে থাকব দুজন ভূবন করে আলো
          গুড়িয়ে দিল উথ্বাল পাথ্বাল ঝড়।

          17 August 2007

          ফ্রীল্যান্স সাংবাদিক বা লেখকদের জন্য টিপস


          [*] আপনি পেশাদার লেখক না কিন্তু যেকোন বিষয় নিয়ে লিখতে চান।

          [*] এই ধরনের লেখাকে আয়ের মূল উৎস হিসেবে নেবেন না।

          [*] আপনি হবেন একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বা লেখক। কবি, সাহিত্যিক বা চিত্রনাট্য লেখক নয়।

          [*] পড়ার অভ্যাস, লেখার ধরন, ব্যাকরন, বানান, কম্পিউটার এবং ছোটখাট গ্রাফিক্স এডিটিং সফটওয়্যার সম্বন্ধে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে।

          দক্ষতা বাড়ানোর উপায়ঃ

          [*] যেকোন ধরনের সংবাদপত্র, ম্যাগাজীন এবং বই পড়ুন। পড়ে জানতে চেষ্টা করুন লেখার ধরন।

          [*] লেখুন, লেখুন এবং লেখুন। প্রতিদিন সময় করে লিখুন। শুরুতে একটা সস্তা বাচ্চাদের ছোট (A4 এর অর্ধেক) সাইজের লাইন টানা (বাংলা লেখার খাতা) খাতা কিনুন। প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা করে লিখুন। লেখা হতে পারে যে কোন বিষয়ে। নিজেকে নিয়ে, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জন, পরিবার, পোষা জন্তু, যেকোন প্রিয় এবং অপ্রিয় বিষয়ে লিখুন। চিঠি বা ডায়রী আকারে নয়। লিখুন সংবাদপত্রে প্রকাশ করার ভঙ্গীতে। খাতাটা যেহেতু আপনার ব্যাক্তিগত তাই কোন কিছু আসম্পূর্ন করে লিখবেন না। সমালোচকের ভূমিকায় লিখুন।

          [*] সুযোগ পেলেই অন্যের সাথে কথা বলুন। জমিয়ে গল্প করুন বা আড্ডা দিন। প্রায়ই দেখা যায় কোন আড্ডার এক/দুইজন মধ্যমনি থাকে। তারা কথার যাদুতে অন্যদের তাক লাগিয়ে দেয়। তাদের মত করে কথা বলার অভ্যাস করুন। সেভাবে লিখলে পাঠক উপলব্ধি করবে যেন আপনি তাদের সামনেই আছেন।

          [*] লেখার শেষ অংশ অসম্পূর্ন রাখবেন না। লেখাটি পুরোপুরি সম্পূর্ন করুন। তাহলে লেখা পূর্নাঙ্গ হবে।

          [*] বেশ কয়েকটা সংবাদপত্র বা ম্যাগাজীন কিনে তাদের লেখার স্টাইলের ভিন্নতা বোঝার চেষ্টা করুন। দেখুন পেশাদার সাংবাদিক এবং রিপোর্টাররা কিভাবে সামান্য তিন-চার লাইনের বিষয়কে ব্যাখ্যা বিন্যাস করে দেড়-দুইশো শব্দের প্রবন্ধ বা সংবাদ বানিয়ে ফেলেছে।

          [*] একটা বিষয়কে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কয়েকভাবে লেখার চেষ্টা এবং অভ্যাস করুন। একবার ভাল দিক তুলে ধরুন, পরেরবার ঐ একই বিষয়ে খারাপ দিক। এতে আপনার চিন্তা এবং কল্পনাশক্তির পরিধি বাড়বে।

          [*] কোন ঘটনা ঘটতে দেখলে পুরো ব্যাপারটা ভালভাবে মনে রাখুন। কাগজ কলম থাকলে নোট নিন। ক্যামেরা বা রেকর্ড প্লেয়ার থাকলে অনুমতি নিয়ে ব্যাবহার করুন। তৈরী করুন রিপোর্ট বা নিদেন পক্ষে মাত্র একশত শব্দের প্যারাগ্রাফ।

          [*] যেহেতু এটি আপনার মূল পেশা নয়, তাই সবাইকে/সর্বক্ষেত্রে নিজেকে সাংবাদিক (ফ্রীল্যান্স হোক বা না হোক) পরিচয় দিলে মূল ঘটনা নাও জানা যেতে পারে। বন্ধু, সমঝদার শ্রোতা, সাহায্যকারী বা সমব্যাথী হয়ে মূল ঘটনা জানার চেষ্টা করুন।

          কাজে সাফল্য আনুন


          এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে, এই দিনকে নেব আমরা সেই দিনেরও কাছে। গানের এই কথাটা শুনতে ভাল লাগলেও সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। যে সময় চলে যাচ্ছে সে সময়ে আমরা কী করছি? সব দিনেই কি আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারছি?

          আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই অনেক অসফল দিন আছে। কিন্তু সব দিনই অসফল হবে এমন কথা নেই। আসুন জানি কীভাবে দিনের সব কাজে সফলতা আসবে। দেরী না করে শুরু করি আজ থেকেই।

          [*] এটি খুবই গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার যে আপনি সারাদিন কি কি করবেন। সারাদিনের কাজের তালিকা তৈরী করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং কঠিন কাজটি তালিকার শুরুতে লিখুন। পর্যায়ক্রমে সহজ এবং সহজতর। দিনের শুরুতেই কঠিন কাজটি করে ফেললে আপনি থাকবেন টেনশান মুক্ত এবং পরের কাজগুলো করা সহজ হবে। সহজ কাজগুলি আগে করে ফেললে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। কঠিন কাজ করা আরো কঠিন হবে।

          [*] দিনের শুরুতে কী করবেন তার একটি রুটিন করে নিন। কথায় আছে “সব ভাল যার শেষ ভাল”। কিন্তু শুরু ভাল না হলে শেষ ভাল হতে চায়না। সকালটা হবে আপনার একেবারে নিজস্ব। সারাদিনের কাজের তালিকা আপনি সকালেই তৈরী করতে পারেন। সকালে হালকা ব্যায়াম, পুষ্টিকর নাস্তা, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মেডিটেশন, নামায/ প্রার্থনা আপনাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রাণদ্দীপ্ত করবে। পাবেন সারাদিনের কর্মদ্দিপনা এবং যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আত্মবিশ্বাস।

          [*] যেকোন কাজের মূললক্ষ্য নির্ধারন করা খুবই গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। আজকে যে কাজ করবেন ভবিষ্যতে তার ফলাফল কিভাবে পেতে চান তা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। বড় কোন লক্ষ্য অর্জন করতে ঐ কাজটিকে ছোট কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিন। এতে কাজ সহজ হবে।

          [*] যখন একা থাকবেন নিজেকে নাম ধরে ডেকে প্রশ্ন করুন। মনে মনে নয়। স্বাভাবিক গলায়। প্রশ্ন করুন আপনার দুর্বলতা সম্বন্ধে। ভয় পাবেন না, লজ্জা পাবেন না বা এড়িয়ে যাবেন না। আপনার গোপন দুর্বলতার ব্যাপারে হয়তো কেউ জানেনা বা লক্ষ্য করেনি। কিন্তু আপনি নিজেকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান এবং উত্তর খুজুন। নিয়মিত প্রশ্ন করতে থাকলে একদিন ঠিকই উত্তর পেয়ে যাবেন। ফিরে পাবেন আত্মবিশ্বাস।

          [*] যখন আপনি কোন কিছু করবেন তখন কাজে মনযোগ দিন। রেডিও-টেলিভিশন চালু থাকলে বন্ধ করুন বা ভলিয়্যুম কমিয়ে দিন। টেলিফোন মিউট করে দিন। আশে পাশে কেউ থাকলে কাজের কথা বলে তাদেরকে ডাকাডাকি বা বিরক্ত করতে নিষেধ করুন। কোন গুরুত্বপূর্ন কাজে বা ইন্টারভিউ এ যাবার পথে পরিচিতজনের সাথে সাক্ষাৎ হলে কুশলাদি বিনিময় সংক্ষিপ্ত করে মূল কাজে রওনা দিন। পথিমধ্যে এমন সাক্ষাৎ অনেক সময় কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।

          [*] দিনকে দুইভাগে ভাগ করে নিন। সকাল থেকে দুপুর এবং দুপুর থেকে বিকাল। আফিস টাইম নয়টা-পাঁচটা হিসেবেও দুই ভাগে ভাগ করতে পারেন। কঠিন এবং জটিল কাজ দিনের প্রথমার্ধে এবং অপেক্ষাকৃত সহজগুলো দিনের দ্বিতীয়ার্ধে করুন। বিকেল এবং সন্ধ্যা রাখুন নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের জন্য। মনে রাখবেন, আপনার চারপাশের সবাই আপনার কাজের প্রেরনা।

          [*] নিজের কাজে কোন ত্রু টি হলে তার দোষ অন্য কোন ব্যাক্তি বা বস্তুর উপর চাপাবেন না। অন্যের কাছ থেকে ততটুকুই আশা করুন যতটুকু তাকে আপনি নিজে দিতে পারবেন। অন্যের কারনে যদিও আপনার কাজে ভুলত্রু টি হয় তবে তার ফল কিন্তু আপনাকেই বহন করতে হবে। তাই কাজের ত্রু টি বের করে দ্রুত সমাধানের পথ খুজুন।

          [*] প্রত্যেক কাজ শেষ করবেন খুব ভাল ভাবে। যেন দীর্ঘসূত্রতা না থাকে। আগামীকালও আপনাকে কাজ করতে হবে। কাজের লেজুড় থাকলে আগামীর কাজ ব্যাহত হবে। কোন কাজ শুরু করলে সেটা শেষ করে ছাড়ুন। খুব সুন্দরভাবে কাজ সম্পন্ন করুন এবং আগামীকালের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকুন।

          [*] দিনের শেষে পর্যালোচনা করে দেখুন কি কি কাজ করতে চেয়েছিলেন এবং কোনটি কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে। মিলিয়ে দেখে নিন আপনার কাজের সাফল্য। কোন কাজে অসফল হলে সেটি অন্যভাবে করার চিন্তা করুন। নিজেকে সম্মান করুন এবং আত্মবিশ্বাসি থাকবেন। দেখবেন আপনার সব কাজে সাফল্য নিশ্চিত।

          শেয়ার করুন

          Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More